জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দলের প্রতিবেদন

বাংলাদেশে আস্তানা গড়তে চায় আল-কায়েদা

গেজেট প্রতিবেদন

দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের হুমকি আরও তীব্র হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিশ্লেষণাত্মক সহায়তা এবং নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দলের ৩৮তম প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস) বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য আস্তানা স্থাপনের চেষ্টা করছে, যা নতুন করে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

সংস্থাটির নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’ এর এক প্রতিবেদনে ওই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছে ১০ আগস্ট। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মূল্যায়নের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের হুমকির সামগ্রিক মাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও সাহেল অঞ্চল এবং দক্ষিণ এশিয়ায় এই হুমকি আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।

বৈশ্বিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতৃত্বের অবস্থা মূল্যায়ন করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-কায়েদার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বর্তমানে কিছুটা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের মে মাসে আইএসআইএল-এর উপ-নেতা আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-মাইনিকির মৃত্যু গোষ্ঠীটির জন্য একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।

প্রতিবেদনে আফ্রিকা (বিশেষ করে মালি ও সোমালিয়া), মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিস্তার, তাদের পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অর্থায়নের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবেই বাংলাদেশের ভূখণ্ডে একিউআইএস-এর আস্তানা তৈরির প্রচেষ্টার বিষয়টি তুলে ধরে নিরাপত্তা পরিষদ।

অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে তথ্য, বিশ্লেষণ ও সুপারিশ দিয়ে সহায়তা করে। তারা বছরে দুটি রিপোর্ট দেয়। বর্তমানে এই দলে ১০ জন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।

তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে-আল-কায়েদা, আইএসআইএল/দায়েশ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোর হুমকি বিশ্লেষণ।এসব গোষ্ঠীর অর্থায়ন ও আর্থিক নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ।বিদেশী সন্ত্রাসী যোদ্ধা, অস্ত্র, অর্থ ও অন্যান্য সহায়তার গতিবিধি বিশ্লেষণ।জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ।সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ।নিরাপত্তা পরিষদকে নতুন নিষেধাজ্ঞা বা বিদ্যমান ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্পর্কে সুপারিশ দেওয়া।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ১৫২৬ (২০০৪)-এর মাধ্যমে বর্তমান এই মনিটরিং টিম ব্যবস্থাটি গড়ে ওঠে। জাতিসংঘের নিজস্ব নথিতে মনিটরিং টিমের রিপোর্টের ধারাবাহিকতা ২০০৪ সাল থেকে দেখানো হয়েছে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন